Back to BlogHealth & Medicine
Mar 20, 20237 min readUpdated Oct 11, 2026

অতিনিদ্রা শরীরের জন্য উপকারী নাকি অপকারী?

অতিরিক্ত ঘুমানো কি শরীরের জন্য উপকারী, নাকি অপকারী? জেনে নিন অতিনিদ্রার সম্ভাব্য কারণ, হাইপারসোমনিয়া এবং স্থূলতা, মাথাব্যথা, বিষণ্ণতা ও হৃদরোগের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘুমের সম্পর্ক।

অতিনিদ্রাঅতিরিক্ত ঘুমহাইপারসোমনিয়া

আপনি কি অতিরিক্ত ঘুমান?পরিবারের সকলের কাছে কুম্ভকর্ণ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।অথবা আপনার কোনো ভাই,বোন কিংবা বন্ধু অনেক ঘুম কাতুরে।অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে শারীরিক কি প্রভাব পড়তে পারে শুধুমাত্র তা নিয়েই বলছি।

"তার আগে একটা প্রশ্ন আছে।ঘুমপ্রিয় মানুষরা এতো ঘুমায় কেন?অনেকে দেখি দিনের বেলায়‌ও যেকোনো সময় ঘুমিয়ে পরে।আমার তো ভাই এতো ঘুমাতে ভালো লাগে না।"

"যারা হাইপারসোমনিয়ার আসামি তাদের জন্য অতিরিক্ত ঘুমানোটা একটা রোগ।এবার আপনার মনে প্রশ্ন আসবে যে হাইপারসোমনিয়া কি?হাইপারসোমনিয়া মূলত একটি স্নায়ুবিক ব্যাধি।এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রাতে ভালো পরিমাণ ঘুম হলেও দিনে তন্দ্রাচ্ছন্নতায় ভোগে।এ রোগের আসামিরা দিনের বেলা অনেক ক্লান্ত বোধ করেন এবং কর্মক্ষেত্রে, খাবারের সময় কিংবা গাড়ি চালানোর সময়‌ও ঘুমিয়ে পরতে পারে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া অথবা নিদ্রাকালীন শ্বাসব্যাঘাতের কারণে স্বাভাবিক নিদ্রা চক্রকে ব্যাহত করে যার ফলে দিনের অন্যান্য সময়ে ঘুমানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

তবে যারা অতিরিক্ত ঘুমায় তাদের সবার‌ই এই ধরণের রোগ থাকে না।অনেক মানুষ‌ই অতিরিক্ত ঘুমাতে ভালবাসে এবং সেটাকে অভ্যাসে পরিণত করে। অতিরিক্ত ঘুমানোর অন্যান্য সম্ভাব্য কারণের মধ্যে বিষন্নতা,অ্যালকোহল গ্রহণ‌ ও বিভিন্ন ঔষধ গ্রহণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।"

"হুম বুঝলাম। এবার কুম্ভকর্ণদের অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে কী ধরণের শারীরিক সমস্যা হতে পারে তা বলুন?"

"অতিরিক্ত ঘুমানোর প্রাপ্ত ফল হিসেবে ওবিসিটি অথবা স্থূলতার কথা বলতে পারি। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা রাতে 7 থেকে 8 ঘন্টা ঘুমায় তাদের তুলনায় রাতে 9 থেকে 10 ঘন্টা ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে বিগত ছয় বছরে স্থূলতার হার 21% বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় তাদের ঘুমানোর পরিমাণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম‌ও প্রায় একই রাখা হয়েছিল।

এরপর হেডেক বা মাথা ব্যথাও অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণে হতে পারে। যদিও এটিকে রোগ না বলে উপসর্গ বলাই উত্তম। অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে মানব মস্তিষ্কে সেরোটোনিন সহ নির্দিষ্ট নিউরোট্রান্সমিটারের উপর প্রভাব পরে যার ফলস্বরূপ এই উপসর্গ দেখা দেয়।"

"নিউরোট্রান্সমিটার আর সেরোটোনিন নিয়ে একটু বলবেন?"

"নিউরোট্রান্সমিটারকে মস্তিষ্কের পিয়ন বলতে পারেন।এটি মূলত এক প্রকার রাসায়নিক বার্তাবাহক যা সিন্যাপস বা স্নায়ুসন্ধি দিয়ে এক নিউরন/স্নায়ুকোষ থেকে অন্য নিউরন/স্নায়ুকোষে সংকেত প্রেরণ‌ ও নিয়ন্ত্রণ করে।"

একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলাম।

"আচ্ছা এবার সেরোটোনিন নিয়ে বলি। হয়তো কখনো আপনি অনুভব করেছেন যে আপনি অনেক ভালো আছেন অথবা অনেক বিষন্ন হয়ে আছেন। আপনার এই ধরণের অনুভূতির মূল কারণ হচ্ছে এই সেরোটোনিন। সেরোটোনিনের স্বাভাবিক মাত্রা 1-289 ng/ml হ্রাস বৃদ্ধি হলে এই ধরণের অনুভূতি হয়। এটাকে অনেক সময় ভালো থাকার হরমোন‌ও বলা হয় যদিও এটি হরমোন নয়, এটি মনোএমাইন ধরণের নিউরোট্রান্সমিটার যার মধ্যে অ্যামিনো এসিড আছে। সেরোটোনিনের রাসায়নিক নাম 5-হাইড্রক্সিট্রিপ্টামিন।"

"এবার আপনি আগের টপিক ফিরে যেতে পারেন।"

"হুম, অতিনিদ্রার ফলে ব্যাক পেইন অথবা পিঠে ব্যথা হ‌তে পারে।মূলত অনেকক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে এই তীব্র পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে। এরপরে বিষণ্ণতার কথা বলা যায়। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইনসমনিয়া/অনিদ্রার সাথে বিষণ্ণতা যুক্ত। তবে শতকরা 15% বিষণ্ণ ব্যক্তির বিষণ্ণতার মূল কারণ অতিনিদ্রা। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে যারা অতিনিদ্রা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হ‌ওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।"

"শুধু কি এগুলো‌ই নাকি আরো নেতিবাচক প্রভাব আছে?"

"আরো আছে। 72 হাজার নারীর উপরে করা একটি সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যে নারীরা রাতে 8 ঘন্টা ঘুমায় তাদের তুলনায় রাতে 9 থেকে 11 ঘন্টা ঘুমানো নারীদের মধ্যে হৃদরোগের সম্ভাবনা 38% বেশি ছিল। যদিও গবেষকরা এখনো অতিনিদ্রার সাথে হৃদরোগের সম্পর্ক চিহ্নিত করতে পারেনি। আমি আরেকটি প্রভাব সম্পর্কে জানি সেটা হলো মৃত্যু।"

"মৃত্যু!? অতিনিদ্রার সাথে মৃত্যু কিভাবে সম্পর্কিত হয়?"

"এই দুটোর পারস্পরিক কারণ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যারা 7 থেকে 8 ঘন্টা ঘুমায় তাদের তুলনায় 9 থেকে 10 ঘন্টা ঘুমানো ব্যক্তিরা কম বয়সে মৃত্যুবরণ করেছে।"

"বিষয়টা ঠিক বোধগম্য হলো না।একটু ব্যাখ্যা করুন।"

"এটা অনেকটা এইরকম যে, ধরুন যারা অতিরিক্ত ঘুমায় তাদের গড় আয়ু 60 বছর এবং যারা স্বাভাবিক অর্থাৎ যারা অতিনিদ্রায় আচ্ছন্ন না তাদের গড় আয়ু 70 বছর। তো এবার 100 বছর ধরে 1000 ব্যক্তির উপর এই গবেষণা চালানো হলে যারা অতিরিক্ত ঘুমাবে তাদের মৃত্যুর হার বেশি হবে।

অথবা এই গবেষণার 50 বছরের ফলাফল‌ও যদি দেখা হয় সেখানেও যাদের গড় আয়ু 70 বছর তাদের তুলনায় যাদের গড় আয়ু 60 বছর তাদের মৃত্যু হার বেশি থাকবে।তবে আমি আবারো বলছি অতিনিদ্রার সাথে এটার সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত না।"

"আচ্ছা বুঝলাম। এবার আপনার বলা তথ্যের সোর্স কি?"

"এখনি দেখাচ্ছি।" বলেই পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে সোর্সটা দেখিয়ে দিলাম।

https://www.webmd.com/.../physical-side-effects-oversleeping